গ্রিসে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের একজন বাংলাদেশি

১ মার্চের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এথেন্সে পার্লামেন্টের বাইরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও রেলওয়ে কর্মচারি রোববার বিক্ষোভ করেছে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিনের দুর্ঘটনায় ৫৭ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অর্ধ-শতাধিক। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন আছেন বাংলাদেশি। তার নাম মো. ইদ্রিস (৪০)। তিনি চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলার ৮ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সাহেব মিঞার ছেলে।

জাগোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। গ্রিসের লারিসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত ইদ্রিসের কাপড়ের আলামত থেকে ডিএনএসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে। পরে লারিসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন ট্রেনটি প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। যাত্রীবাহী ট্রেনটির প্রথম দুটি বগিতে আগুন ধরে যায়। এতে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয় বগি দুটি। এ ঘটনাটি গ্রিসের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন দেশটির অবকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রী কোস্টাস কারামানলিস। এছাড়া ঘটনার পরপরই লারিসা শহরের স্টেশনমাস্টারকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রিসে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে কার্গো ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫৭ জন নিহতের ঘটনার পর তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস। ফেইসবুকে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমি  প্রত্যেকের কাছেই দায়বদ্ধ, তবে বিশেষ করে যারা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তাদের স্বজনদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

ঘটনার পর থেকেই খোঁজ মিলছিল না বাংলাদেশি অভিবাসী মো. ইদ্রিসের। তার সহকর্মীরা তাকে না পেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকেও অবগত করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে গ্রিসের লারিসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন হাসপাতাল মর্গে বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত মরদেহ ছিল। গ্রিসের একটি টিভি চ্যানেলও তার ছবি দিয়ে সংবাদ প্রচার করে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের প্রথম সচিব বিশ্বজিৎ কুমার পাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিভিন্ন তথ্য ও ব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করে। পরে তারা কাপড় নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করে নিশ্চিত হয়। পরিচয় শনাক্ত করে দূতাবাসে জানানো হয়। তার লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান।’

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads